Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিটিজেন চার্টার

সিটিজেন চার্টারঃ

 

রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ” বাংলাদেশ কারা বিভাগ এই ভিশনকে সামনে রেখে কারাগারগুলো সংশোধনাগার ও সেবামুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। জনস্বার্থ ও জনকল্যাণে কারাগারের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেবা কার্যক্রম সহজীকরণের নিমিত্তে ও সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে প্রধান প্রধান সেবাসমূহ ও নিয়মাবলী নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল।

ক। বন্দীদের সাথে দেখা সাক্ষাতের নিয়মাবলীঃ-

১। ডিটেন্যূ ও নিরাপদ হেফাজতী বন্দীদের সাথে দেখা করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট  আদালতের অনুমতি প্রয়োজন।

            ২। দেখা সাক্ষাত সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে।

৩। বন্দীদের সাথে দেখা করার জন্য কোন প্রকার টাকা লেনদেন নিষিদ্ধ। কাহাকেও টাকা দেয়া যাবে না । কেউ টাকা দাবী করলে সঙ্গে সঙ্গে সিটিজেন চার্টারে লিখিত টেলিফোন নাম্বারে জানাতে হবে অথবা  অনুসন্ধানে রক্ষিত অভিযোগ রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৪। মোবাইল বা অন্য কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ে সাক্ষাত কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না।

৫। সাক্ষাত করার জন্য আবেদন পত্র দাখিল করতে হয়। কেউ যদি আবেদন পত্র লিখতে না পারেন তাহলে  সাক্ষাত কক্ষের পাশ্বে নিয়োজিত প্রধান কারারক্ষীর নিকট হতে ২ টাকার বিনিময়ে স্লিপ সংগ্রহ করে  সাক্ষাত কক্ষে প্রবেশ করবেন।

৬। সাক্ষাত প্রাথীদের  সহজ ও ন্যায্য মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহের লক্ষ্যে সাক্ষাত কক্ষের   পার্শেব ক্যান্টিন রয়েছে। ক্যান্টিনে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় হয় । যে কেউ ক্যান্টিন হতে মালামাল ক্রয় করে বন্দীকে সরবরাহ করতে পারেন।

 

খ। বনদীর নিকট মালামাল সরবরাহের নিয়মাবলীঃ-

১। বন্দীর নিকট মালামাল সরবরাহের নিমিত্তে মালামাল তালিকায় লিষ্ট করে কর্তব্যরত নাম ও নাম্বার যুক্ত   কারারক্ষীর নিকট জমা দিতে হবে। এ  জন্য সার্ভিস চার্জ হিসাবে ২ টাকা প্রদান করতে হবে।

২। বন্দীর আত্নীয় স্বজনদের  দেয় মালামাল যত্নের সাথে বন্দীর নিকট পৌছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

৩। মালামাল বন্দীর নিকটপৌছানোর জন্য কোন প্রকার অর্থের প্রয়োজন হয়না। কেউ টাকা দাবী করলে  সঙ্গে সঙ্গে সিটিজেন চার্টারে লিখিত টেলিফোন নাম্বারে জানাতে হবে অথবা অনুসন্ধানে রক্ষিত অভিযোগ    রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৪। কেউ মালামালের ভিতরে কোন প্রকার অবৈধ দ্রব্য সরবরাহ করার চেষ্টা করতে পারবে না। মালামাল যাচাই করে বন্দীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। জমাদান কালে যদি অবৈধ মালামাল পাওয়া যায় তবে সরবরাহ কারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কারাভ্যন্তরে প্রবেশের পর যদি মালামালের ভিতরে অবৈধ দ্রব্যাদি পাওয়া গেলে কারা বিধি মোতাবেক বন্দীকে শাস্তি  প্রদান করা হবে।

 

গ। বন্দীদের জামিন সংক্রান্ত নিয়মাবলীঃ-

 

১। জামিনে মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীদের তালিকা নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গানো থাকে।

২। জামিন নামা কারাগারে পৌছানোর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সত্তেও নেটিশ বোর্ডে টাঙ্গানো

    তালিকায় বন্দীর  নাম না থাকলে অনুসন্ধানে যোগাযোগ করতে হবে।

৩। যে সকল বন্দীর জামিন নামায় ভুল আছে তাদের তালিকা নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গানো থাকে। তাদের  

     পরদিন মুক্তি পাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই অহেতুক অপেক্ষা না করে পরদিন আসতে হবে/ কোন

     বন্দী নির্ধারিত  সময়ে মুক্ত না হলে অনুসন্ধানে যোগাযোগ করতে হবে।

৪। বন্দী মুক্তির ব্যাপারে কোন প্রয়োজন হয় না। যদি কেহ অর্থ দাবী করে বা অর্থের বিনিময়ে জামিন ত্বরান্নিত করে দিবে বলে আশ্বাস দেয় তবে তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি জেলারের মোবাইল নাম্বারে অথবা অনুসন্ধানে রক্ষিত অভিযোগ রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ করতে পারবে।

 

 

 

গ। ওকালত নামা স্বাক্ষরের নিয়মাবলীঃ-

 

১। ওকালত নামা নির্দিষ্ট বাক্সে ফেলতে হবে।

২। বন্দীর পূর্ন নাম ঠিকানা এবং মামলার বিবরণ লিখে বাক্সে জমা করতে হবে।

৩। জমা দেয়ার ০১ ঘন্টা পর ওকালত নামার বাক্স খোলে বন্দীর স্বাক্ষরান্তে  নির্দিষ্ট আইনজিবি বা

    তাহার আত্বীয়ের নিকট প্রদান করা হয়।

৪। ওকালত নামা সাক্ষরান্তে কোন সমস্যা হলে অনুসন্দানে যোগাযোগ করতে হবে।

 

 

 

ঘ। বিশ্রামাগারঃ-

 

১ বিশ্রামাগারে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা আছে।

২। বিশ্রামাগারে বৈদ্যুতিক পাখা , পানীয় জল এবং টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

৩। অফিসে কোন সংবাদ পৌছানোর জন্য অনুসন্ধানে যোগাযোগ করতে হবে।

৪। বিশ্রামাগারে অবস্থানের সময় কোন প্রকার অসুবিধা হলে কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষী/ কারারক্ষীকে অবহিত করতে হবে।

৭. বন্দীদের সাথে আচরন প্রসঙ্গে-
ক. কারাগারে আটক বন্দীদের সাথে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা হয়।
খ. কারাগারে আটক বন্দীদের অপরাধ ছাড়া কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করা হয় না।
গ. কারা বিধি অনুসারে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দীর খাবার ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

 

৮. চিকিৎসা ব্যবস্থা-
ক. প্রত্যেক কারাগারে হাসপাতাল বিদ্যমান রয়েছে। অসুস্থ বন্দীদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও তথ্য প্রদান করা হয়। অসুস্থ বন্দীদের চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাহিরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
খ. কারাভ্যন্তরে মাদকসেবী বন্দীদের সাধারণ বন্দীদের থেকে আলাদা করে পৃথক আবাসনের মাধ্যমে যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

 

৯. প্রশিক্ষণ-

ক. কারাগারে আটক বন্দীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিরুপন করতঃ তাদের আগ্রহ অনুসারে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
খ. কারাগারে আটক সাজা প্রাপ্ত বন্দীদের বিভিন্ন ট্রেডে নিয়োজিত করে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করতঃ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হয় যাতে করে বন্দী সাজা ভোগের পর মুক্ত জীবনে গিয়ে নানারকম পেশায় নিজেকে  নিয়োজিত করতে পারে।

 

১০. বন্দীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমঃ
ক. কারাগারে আটক নিরক্ষর বন্দীদেরকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। প্রত্যেক নিরক্ষর বন্দীকে বাধ্যতামূলকভাবে এই শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে, যাতে করে কারাগার থেকে মুক্তির পর সামাজিক জীবনে ফিরে সুস্থ ও স্বভাবিক জীবন যাপন করতে পারে।
খ. মরণব্যাধি HIV/AIDS এর ভয়াবহতা সম্পর্কে বন্দীদের সজাগ করা হয় এবং মরণব্যাধি রোধকল্পে নানা রকম পন্থা সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
গ. কারাগারে আটক বন্দীদের স্ব-স্ব ধর্ম প্রতিপালনের স্বার্থে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগসহ প্রতিপালনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা রহেছে।
ঘ. প্রতিনিয়ত বন্দীদের শৃংখলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা  প্রদান করা হয়।
ঙ. বন্দীদের দরবার ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং দরবারের সমস্যাগুলো মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা হয় এবং সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
চ. নির্ধারিত তারিখে বন্দীদের হাজিরার নিমিত্তে কোর্টে প্রেরণ নিশ্চিত করা হয়।
ছ. বন্দীদের চিত্তবিনোদনের জন্য কারাভ্যন্তরে টিভি, রেডিও, ক্যারাম, লুডু, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে।
জ. সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দেখা সাক্ষাতের সুবিধার্থে নিজ জেলায় বা নিকটস্থ কারাগারে বদলী নিশ্চিত করা হয়।
ঝ.বন্দীদের চারিত্রিক সংশোধনের জন্য মোর্টিভেশনাল ক্লাস চালু রয়েছে এবং নানাবিধ প্রেষণামূলক যেমন, টিভি, রেডিও, ফ্রিজ, চার্জার লাইট মেরামত ও গাবাদি পশু পালন, মৎস্য চাষ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
ঞ. কারাগারে বিভিন্ন প্রকার বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ যেমন, মোড়া, তাঁত শিল্প, পাপোস, থালা-বাটি, কাঠের আসবাবপত্র তৈরী ইত্যাদি কাজ চালু রয়েছে।
ট. প্রত্যেক কারাগারে বন্দীদের জন্য ক্যান্টিন ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুদ রাখা হয়। বন্দীরা চাহিদা অনুযায়ী ক্যান্টিন হতে উক্ত মালামাল ক্রয় করতে পারেন।

 

বিঃদ্রঃ উপরে উল্লেখিত সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে কোন অসুবিধা বা হয়রানির স্বীকার হলে নিম্নোক্ত কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে অথবা নিম্নোক্ত টেলিফোন/মোবাইলে জানানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।